অলি আহমেদ
April 24, 2026 at 8:26 AM
*বিষ্যুদবারে হাফ শুক্কুরবারে মাফ*
সপ্তাহে ছয়দিন ক্লাস হতো সেসময়। বৃহস্পতিবার হাফ ক্লাস হতো এবং শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। তখন সকাল ১০ টা থেকে ক্লাস শুরু হতো টিফিন বিরতি দিয়ে ৪:০০টা পর্যন্ত ক্লাস হতো। গোটিয়া শোমসের আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে হাফ ক্লাস হতো সোমবার, বৃহস্পতিবার ফুল ক্লাস হতো। কোন এক সরকারী আদেশের কারণে সোমবারেও ফুল ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং স্কুল শুরুর সময় সম্ভবত ৮:০০ টা করা হয়। টিফিন বিরত ছাড়া ৮ টা ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এবার জানা যাক কেন সোমবারে হাফ ক্লাস হতো। আমাদের গ্রাম থেকে শহর ছিল অনেক দূর। যোগাযোগ ব্যাবস্থা ছিল না বললেই চলে। একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌকা। গ্রাম থেকে শহরে আসা ছিল রীতিমতো চ্যালেঞ্জ। গোবিন্দপুর গ্রামে সোমবার হাট বসতো। আশেপাশের গ্রামের সকল মানুষের জীবন এবং জীবিকা অনেকাংশে এই হাটের উপর নির্ভরশীল ছিল। উৎপাদিত ফসলাদি বিক্রি করা থেকে শুরু করে সারা সপ্তাহের সমস্ত বাজার গৃ্হস্থালি সবকিছু সোমবারের হাট থেকে ক্রয় করা হতো। অনেক পরিবার ছিল সোমবারের এই হাটে দোকান করে জীবন নির্বাহ করতো। মানুষের জীবন এবং জীবিকার এই অলঙ্ঘনীয় পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় সোমবারে হাফ ক্লাস নেয়া হতো। অনেকেই সোমবারে হাফ ক্লাস হাটে যেত পরিবারের ব্যাবসায়ীক কাজে সহায়তা করার জন্য।
কি ঘটেছিল সোনবারে ফুল ক্লাস নিয়ে?
একটি আন্দোলন দানা বাধে। সোমবারে ফুল ক্লাস নিলে বিরতি দিতে হবে। ক্লাশ শুরুর সময় নিয়ে কি সিদ্ধান্ত ছিল মনে করতে পারছি না। বিরতিহীন ক্লাশ নিলেও ৮:০০ থেকে শুরু করলে দুপুর ১২:০০ বেজে যায় ক্লাস শেষ হতে। এতেই অনেকের আপত্তি। কারণ তারা হাটে যেতে পারছে না। আমরা ছিলাম টিফিন বিরতি দেয়ার পক্ষে। দুইটা গ্রুপ দাঁড়িয়ে যায়। বিরতি না দিলে ক্লাস না করার হুমকি দেয়া হয়।
আমি সবে ক্লাস সিক্সে ভর্তি হয়েছি। আমি ছিলাম টিফিন বিরতি দিতে হবে সেই দলে।
একদিন সকালে। দুই পক্ষকে ডাকা হলো৷ ক্লাস সিক্স থেকে আমাকেও ডাকা হলো। দক্ষিণ মুখী যে ঘর ছিল সেই ঘরের একটি অফিস রুম কাম টিসার্স রুম এবং অন্যটি মেয়েদের কমন রুম। পুর্বমূখী দুটি ঘর ছিল। কমন রুমের সামনেই ছিল ক্লাস সিক্সের *ক* শাখার রুম। সেখানেই দাড় করানো হলো মুখোমুখি লাইন করে। দুই দল থেকেই প্রতি ক্লাসের একজন বা দুজন লিডার কে। ছোট থেকে বড় এই ভাবে দাড় করানো হয়। আমার পাশে ছিল বন্ধু স্বপন। আমি জিজ্ঞেস করলাম স্বপন কি করবে আমাদের? স্বপন বললো জানি না? আমি জিজ্ঞেস করলাম মারবে নাকি?
এরপরে স্বপন যা বললো সেটা শুনে আমার পিলে চমকে গেল। ভয়ে গলা শুকিয়ে গেল। ধরে যেন পানি নাই।
স্বপন বললো আলী আকবর স্যার আসবে। উনার ইয়া মোটা একটা বেত আছে। সেইটা দিয়া পিডায়। যখন পিডানো শুরু করে তখন মনে থাকে না কতক্ষণ পিডায় ছাইড়া দিতে হবে। উনি ক্লান্ত হলে পিডানো থামে।
জীবনে কোনদিন মাইর না খাওয়া আমি লাইনে দাঁড়ায় আছি মাইর খাওয়ার জন্য। আমি পিছনে তাকালাম। দেখলামা
আমার ক্লাসের মেয়েরা কমন রুমের দরজার বাইরে এসে দাঁড়িয়ে। সাথে আমার বোনদেরও কয়েকজনকে দেখলাম। কেউ একজন আমাকে বললো তুই এই দিক দিয়া দৌড় পালায় যা। কমন রুম এবং ক্লাস রুমের মাঝখানে ছোট্ট একটা সরু গলি ছিল। আমি বললাম ফাকা করে রাখো, বারি শুরু করলে দৌড় দিমু।
আমার ফিসফিসানি শুনে স্বপন বললো চুপ থাক, পলানোর চিন্তা করিস না। ধইরা আইনা এমন মাইর দিবে! দেখ বড়দের মারতে মারতে আমরা মাফ পায়া যাইতে পারি।
উৎকন্ঠা নিয়ে মাইর খাওয়ার অপেক্ষায়। সেই আধাঘন্টা সময় যেন এক যুগের সমান। আজো আমাকে সেই ভয় তাড়া করে বেড়ায়। সম্মানে শ্রদ্ধায় মাথা নুইয়ে আসে আলী আকবর স্যারের জন্য।
পুনশ্চ: পরে কি হয়েছিল আজ মনে করতে পারছি না।
দ্বিতীয় পুনশ্চঃ আমি টিফিন বিরতি পক্ষে ছিলাম কারণ আমার বড় ভাইয়েরা এই দলে ছিল। আমিনুল ভাই শফিক ভাই, স্বপন এবং আরোও অনেকে।
সপ্তাহে ছয়দিন ক্লাস হতো সেসময়। বৃহস্পতিবার হাফ ক্লাস হতো এবং শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। তখন সকাল ১০ টা থেকে ক্লাস শুরু হতো টিফিন বিরতি দিয়ে ৪:০০টা পর্যন্ত ক্লাস হতো। গোটিয়া শোমসের আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে হাফ ক্লাস হতো সোমবার, বৃহস্পতিবার ফুল ক্লাস হতো। কোন এক সরকারী আদেশের কারণে সোমবারেও ফুল ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং স্কুল শুরুর সময় সম্ভবত ৮:০০ টা করা হয়। টিফিন বিরত ছাড়া ৮ টা ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এবার জানা যাক কেন সোমবারে হাফ ক্লাস হতো। আমাদের গ্রাম থেকে শহর ছিল অনেক দূর। যোগাযোগ ব্যাবস্থা ছিল না বললেই চলে। একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌকা। গ্রাম থেকে শহরে আসা ছিল রীতিমতো চ্যালেঞ্জ। গোবিন্দপুর গ্রামে সোমবার হাট বসতো। আশেপাশের গ্রামের সকল মানুষের জীবন এবং জীবিকা অনেকাংশে এই হাটের উপর নির্ভরশীল ছিল। উৎপাদিত ফসলাদি বিক্রি করা থেকে শুরু করে সারা সপ্তাহের সমস্ত বাজার গৃ্হস্থালি সবকিছু সোমবারের হাট থেকে ক্রয় করা হতো। অনেক পরিবার ছিল সোমবারের এই হাটে দোকান করে জীবন নির্বাহ করতো। মানুষের জীবন এবং জীবিকার এই অলঙ্ঘনীয় পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় সোমবারে হাফ ক্লাস নেয়া হতো। অনেকেই সোমবারে হাফ ক্লাস হাটে যেত পরিবারের ব্যাবসায়ীক কাজে সহায়তা করার জন্য।
কি ঘটেছিল সোনবারে ফুল ক্লাস নিয়ে?
একটি আন্দোলন দানা বাধে। সোমবারে ফুল ক্লাস নিলে বিরতি দিতে হবে। ক্লাশ শুরুর সময় নিয়ে কি সিদ্ধান্ত ছিল মনে করতে পারছি না। বিরতিহীন ক্লাশ নিলেও ৮:০০ থেকে শুরু করলে দুপুর ১২:০০ বেজে যায় ক্লাস শেষ হতে। এতেই অনেকের আপত্তি। কারণ তারা হাটে যেতে পারছে না। আমরা ছিলাম টিফিন বিরতি দেয়ার পক্ষে। দুইটা গ্রুপ দাঁড়িয়ে যায়। বিরতি না দিলে ক্লাস না করার হুমকি দেয়া হয়।
আমি সবে ক্লাস সিক্সে ভর্তি হয়েছি। আমি ছিলাম টিফিন বিরতি দিতে হবে সেই দলে।
একদিন সকালে। দুই পক্ষকে ডাকা হলো৷ ক্লাস সিক্স থেকে আমাকেও ডাকা হলো। দক্ষিণ মুখী যে ঘর ছিল সেই ঘরের একটি অফিস রুম কাম টিসার্স রুম এবং অন্যটি মেয়েদের কমন রুম। পুর্বমূখী দুটি ঘর ছিল। কমন রুমের সামনেই ছিল ক্লাস সিক্সের *ক* শাখার রুম। সেখানেই দাড় করানো হলো মুখোমুখি লাইন করে। দুই দল থেকেই প্রতি ক্লাসের একজন বা দুজন লিডার কে। ছোট থেকে বড় এই ভাবে দাড় করানো হয়। আমার পাশে ছিল বন্ধু স্বপন। আমি জিজ্ঞেস করলাম স্বপন কি করবে আমাদের? স্বপন বললো জানি না? আমি জিজ্ঞেস করলাম মারবে নাকি?
এরপরে স্বপন যা বললো সেটা শুনে আমার পিলে চমকে গেল। ভয়ে গলা শুকিয়ে গেল। ধরে যেন পানি নাই।
স্বপন বললো আলী আকবর স্যার আসবে। উনার ইয়া মোটা একটা বেত আছে। সেইটা দিয়া পিডায়। যখন পিডানো শুরু করে তখন মনে থাকে না কতক্ষণ পিডায় ছাইড়া দিতে হবে। উনি ক্লান্ত হলে পিডানো থামে।
জীবনে কোনদিন মাইর না খাওয়া আমি লাইনে দাঁড়ায় আছি মাইর খাওয়ার জন্য। আমি পিছনে তাকালাম। দেখলামা
আমার ক্লাসের মেয়েরা কমন রুমের দরজার বাইরে এসে দাঁড়িয়ে। সাথে আমার বোনদেরও কয়েকজনকে দেখলাম। কেউ একজন আমাকে বললো তুই এই দিক দিয়া দৌড় পালায় যা। কমন রুম এবং ক্লাস রুমের মাঝখানে ছোট্ট একটা সরু গলি ছিল। আমি বললাম ফাকা করে রাখো, বারি শুরু করলে দৌড় দিমু।
আমার ফিসফিসানি শুনে স্বপন বললো চুপ থাক, পলানোর চিন্তা করিস না। ধইরা আইনা এমন মাইর দিবে! দেখ বড়দের মারতে মারতে আমরা মাফ পায়া যাইতে পারি।
উৎকন্ঠা নিয়ে মাইর খাওয়ার অপেক্ষায়। সেই আধাঘন্টা সময় যেন এক যুগের সমান। আজো আমাকে সেই ভয় তাড়া করে বেড়ায়। সম্মানে শ্রদ্ধায় মাথা নুইয়ে আসে আলী আকবর স্যারের জন্য।
পুনশ্চ: পরে কি হয়েছিল আজ মনে করতে পারছি না।
দ্বিতীয় পুনশ্চঃ আমি টিফিন বিরতি পক্ষে ছিলাম কারণ আমার বড় ভাইয়েরা এই দলে ছিল। আমিনুল ভাই শফিক ভাই, স্বপন এবং আরোও অনেকে।
অনুমোদিত